- আদ্যবর্ণ- কোনো শব্দের প্রথম বর্ণটি হচ্ছে আদ্যবর্ণ। যেমন- কলা এখানে ক হচ্ছে আদ্যবর্ণ।
- পূর্বপদ ও পরপদ। বিদ্যা + আলয় এখানে বিদ্যা হচ্ছে পূর্বপদ আর আলয় হচ্ছে পরপদ।
- ক-বর্গীয় ধ্বনি (কণ্ঠ ধ্বনি) ক খ গ ঘ ঙ
- চ-বর্গীয় ধ্বনি (তালব্য ধ্বনি) চ ছ জ ঝ ঞ
- ট-বর্গীয় ধ্বনি (মূর্ধন্য ধ্বনি) ট ঠ ড ঢ ণ
- ত-বর্গীয় ধ্বনি (দন্ত্য ধ্বনি) ত থ দ ধ ন
- প-বর্গীয় ধ্বনি (ওষ্ঠ্য ধ্বনি) প ফ ব ভ ম
অঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅঅ
👉 অ + অ = আ-কার হয়। যেমন- ধর্ম + অধর্ম = ধর্মাধর্ম,
নব + অন্ন = নবান্ন,
নর + অধম = নরাধম,
নীল + অঞ্জন = নীলাঞ্জন,
প্রাণ + অধিক = প্রাণাধিক,
পীত + অম্বর = পীতাম্বর,
বেদ + অন্ত = বেদান্ত,
শেষ + অংশ = শেষাংশ,
স + অনুনাসিক = সানুনাসিক,
সৈন্য + অধ্যক্ষ = সৈন্যাধ্যক্ষ,
স্ব + অধীন = স্বাধীন,
হস্ত + অন্তর = হস্তান্তর,
হিত + অহিত = হিতাহিত,
হিম + অচল = হিমাচল
স্ব + অধীন = স্বাধীন,
হস্ত + অন্তর = হস্তান্তর,
হিত + অহিত = হিতাহিত,
হিম + অচল = হিমাচল
[অঞ্জন- Anjan, অধম- vile, অধর্ম- unrighteousness, অধিক- more, অধীন- under, অচল- immobilized, অনুনাসিক- nasal,
অন্তর- heart, অন্ন- food, অম্বর-sky, অহিত -harm, ধর্ম- religion, ধর্মাধর্ম- Religion, নব- new, নবান্ন- harvest festival, নর- male, নরাধম- wretch, নীল- blue, নীলাঞ্জন-Nilanjan, পীত- yellow, পীতাম্বর- Pitambara, প্রাণ- soul, প্রাণাধিক- more than life, স্ব- self, সানুনাসিক- nasal, স্বাধীন- independent, হস্ত- hand, হস্তান্তর- transfer, হিত- welfare, হিতাহিত- right and wrong, হিম- frost, হিমাচল- Himachal]
👉 অ + আ = আ-কার হয়। যেমন-
চন্দ্র + আনন = চন্দ্রানন,
দেব + আলয় = দেবালয়,
প্রেম + আনন্দ = প্রেমানন্দ,
ভাগ্য + আকাশ = ভাগ্যাকাশ,
রত্ন + আকর = রত্নাকর,
সিংহ + আসন = সিংহাসন,
স্নেহ + আর্দ্র = স্নেহার্দ্র,
হিম + আনী = হিমানী,
হিম + আলয় = হিমালয়
[আকর- size, আনন- face, আনী- Annie, আলয়- home, আসন- seat, চন্দ্র- Moon, চন্দ্রানন- Chandranan, দেব- deity,
দেবালয়- Devalaya, রত্নাকর- jeweler, রত্ন-stone, সিংহ- lion, সিংহাসন- throne, হিম- frost, হিমানী- Himani, হিমালয়- Himalayas]
👉 অ + ই = ই (অ-লোপে) হয়। এটি বাংলা স্বরসন্ধি। যেমন-
তাঁত + ই = তাঁতি।
👉 অ + ই = এ-কার হয়। যেমন-
ঈশ্বর + ইচ্ছা = ইশ্বরেচ্ছা,
নর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র,
রাজ + ইন্দ্র = রাজেন্দ্র,
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা
👉 অ + ঈ = এ-কার হয়। যেমন-
অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষা,
পরম + ঈশ = পরমেশ
পরম + ঈশ্বর = পরমেশ্বর
[ঈশ- god]
👉 অ + উ = উ (অ-লোপে) হয়। এটি বাংলা স্বরসন্ধি। যেমন-
দুষ্ট + উ = দুষ্টু।
👉 অ + উ = ও-কার হয়। যেমন-
এক + উন = একোন;
নীল + উৎপল = নীলোৎপল
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
হিত + উপদেশ = হিতোপদেশ
[হিত- welfare]
👉 অ + ঊ = ও-কার হয়। যেমন-
গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব
নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া
পর্বত + ঊধ্ব = পর্বতোধ্ব
👉 অ + ঋ = অর/আর হয়। যেমন-
দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
শীত + ঋত = শীতার্ত
👉 অ + এ = এ (অ-লোপে) হয়। এটি বাংলা স্বরসন্ধি। যেমন-
এক + এক = একেক,
অর্ধ + এক = অর্ধেক,
কত + এক = কতেক,
কয় + এক = কয়েক.
তিল + এক = তিলেক.
মাস + এক = মাসেক,
শত + এক = শতেক
👉 অ + এ = ঐ-কার হয়। যেমন-
জন + এক = জনৈক
👉 অ + ঐ = ঐ হয়। যেমন-
মত + ঐক্য = মতৈক্য,
হিত + ঐষী = হিতৈষী
👉 অ + ও = ঔ হয়। যেমন-
বন + ওষধি = বনৌষধি,
মাংস + ওদন = মাংসৌদন
👉 অ + ঔ = ঔ হয়। যেমন-
দিব্য + ঔষধ = দিব্যৌষধ,
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
👉 অ + ছ = চ্ছ হয় [ স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে চ্ছ হয়]। যেমন-
এক + ছত্র = একচ্ছত্র,
প্র + ছদ = প্রচ্ছদ
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচছায়া
👉 বিসর্গ + অ = ও-কার হয়। যেমন-
ততঃ + অধিক = ততোধিক,
মনঃ + অভিলাষ = মনোভিলাষ
👉 অঃ + গ = ও-কার হয়। যেমন-
মনঃ + গত = মনোগত
👉 অঃ + ঘ = ও-কার হয়। যেমন-
👉 অঃ + জ = ও-কার হয়। যেমন-
সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত
👉 অঃ + দ = ও-কার হয়। যেমন-
ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ
👉 অঃ + ধ = ও-কার হয়। যেমন-
তিরঃ + ধান = তিরোধান
👉 অঃ + ন = ও-কার হয়। যেমন-
মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন
👉 অঃ + ব = ও-কার হয়। যেমন-
তপঃ + বন = তপোবন,
সরঃ + বর = সরোবর
👉 অঃ + ভ = ও-কার হয়। যেমন-
মনঃ + ভাব = মনোভাব
👉 অঃ + ম = ও-কার হয়। যেমন-
অধঃ + মুখ = অধোমুখ,
মনঃ + রম = মনোরম
👉 অঃ + য = ও-কার হয়। যেমন-
মনঃ + যোগ = মনোযোগ
👉 অঃ + র = ও-কার হয়। যেমন-
মনঃ + রম = মনোরম
👉 অঃ + ল = ও-কার হয়। যেমন-
যশঃ + লাভ = যশোলাভ
👉 অঃ + হ = ও-কার হয়। যেমন-
পুরঃ + হিত = পুরোহিত,
মনঃ + হর = মনোহর
পূর্ব পদের অঃ থাকলে এবং পর পদে বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ কিংবা য, র, ল, ব, হ পরে থাকলে, এবং উভয় মিলে ও-কার হয় এবং উক্ত ও-কার পূর্ব পদে যুক্ত হয়।
আআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআ
👉 আ + অ = আ-কার হয়। যেমন-
আজ্ঞা + অধীন = আজ্ঞাধীন
আশা + অতীত = আশাতীত
- ক এর পর স্বরধ্বনি থাকলে উক্ত ক এর স্থানে গ হয়। যেমন- দিক + অন্ত = দিগন্ত।
- ক এর পর দ থাকলে উক্ত ক এর স্থানে গ হয়। যেমন- বাগদত্তা fiance = বাক + দত্তা; বাগদান engagement = বাক + দান; বাগদেবী Bagdevi = বাক + দেবী। বাক- speech
- ক এর পরে ন থাকলে ক স্থানে গ/ঙ হয়। যেমন- দিগ্নাগ/দিঙ্নাগ = দিক + নাগ; দিগনির্ণয়/দিঙনির্ণয় Dingrinnoy = দিক্ + নির্ণয়।
- ক এর পরে ম থাকলে ক স্থানে গ/ঙ হয়। যেমন- বাগ্ময়/বাঙ্ময় = বাক্ + ময়।
- চ এর পর স্বরধ্বনি থাকলে উক্ত চ স্থানে জ হয়। যেমন- ণিজন্ত = ণিচ + অন্ত।
- চ এর পরে ন থাকলে উভয় মিয়ে ঞ হয়। যেমন- যাঞা- Wish = যাচ + না।
- জ এর পরে ন থাকলে উভয় মিলে জ্ঞ হয়। যেমন- রাজ্ঞী = রাজ + নী; যজ্ঞ = যজ + ন।
- ট এর পর স্বরধ্বনি থাকলে উক্ত ট স্থানে ড (ড়) হয়। যেমন- ষট + আনন = ষড়ানন।
- ত এর পর স্বরধ্বনি থাকলে উক্ত ত স্থানে দ হয়। যেমন- তদবধি = তৎ + অবধি।
- ত এর পরে ঘ থাকলে ত স্থানে দ হয়। যেমন- উদঘাটন = উৎ + ঘাটন।
- ত এর পর চ থাকলে উক্ত ত এর স্থানে চ হয়। যেমন- সচ্চিন্তা = সৎ + চিন্তা।
- ত এর পর ছ থাকলে উক্ত ত স্থানে চ হয়। যেমন- উচ্ছেদ = উৎ + ছেদ।
- ত এর পর জ থাকলে উক্ত ত এর স্থানে জ হয়। যেমন- সজ্জন = সৎ + জন; যাবজ্জীবন = যাবৎ + জীবন।
- ত এর পরে ঝ থাকলে উক্ত ত এর স্থানে জ হয়। যেমন- কুজঝটিকা = কুৎ + ঝটিকা।
- ত এর পর ড থাকলে ত স্থানে ড হয় যেমন- উড্ডীন = উৎ + ডীন।
- ত এর পর ন থাকলে উক্ত ত স্থানে ন হয়। যেমন- উন্নয়ন = উৎ + নয়ন; উন্নীত = উৎ + নীত; জগন্নাত = জগৎ + নাথ।
- ত এর পরে ব থাকলে ত স্থানে দ হয়। যেমন- উদ্বন্ধন = উৎ + বন্ধন; দিগ্বিজয় = দিৎ + বিজয়।
- ত এর পরে ম থাকলে ত স্থানে ন হয়। যেমন- চিন্ময় = চিৎ + ময়; তন্মধ্যে = তৎ + মধ্যে; মৃন্ময় = মৃৎ + ময়।
- ত এর পরে য থাকলে ত স্থানে দ হয়। যেমন- উদ্যম = উৎ + যম; উদ্যোগ= উৎ + যোগ।
- ত এর পরে র থাকলে ত স্থানে দ হয়। যেমন- তদ্রূপ = তৎ + রূপ।
- ত এর পরে ল থাকলে ত স্থানে ল হয়। যেমন- উল্লাস = উৎ + লাস।
- ত এর পর শ থাকলে উক্ত ত স্থানে চ এবং শ স্থানে ছ হয়। যেমন- উচ্ছ্বাস = উৎ + শ্বাস।
- ত এর পর হ থাকলে ত স্থানে দ এবং হ স্থানে ধ হয়। যেমন- উদ্ধার = উৎ + হার।
- দ এর পরে ক থাকলে দ স্থানে ৎ হয়। যেমন- তৎকাল = তদ + কাল; হৃৎকম্প = হৃদ + কম্প।
- দ এর পর চ থাকলে উক্ত দ স্থানে চ হয়। যেমন- বিপচ্চয় = বিপদ + চয়।
- দ এর পর ছ থাকলে উক্ত দ স্থানে চ হয়। যেমন- বিপচ্ছায়া = বিপদ + ছায়া।
- দ এর পর জ থাকলে উক্ত দ স্থানে জ হয়। যেমন- বিপজ্জাল = বিপদ + জাল।
- দ এর পর ঝ থাকলে উক্ত দ স্থানে জ হয়। যেমন-
- দ এর পরে ত থাকলে দ স্থানে ৎ হয়। যেমন-
- দ এর পর ড থাকলে দ স্থানে ড হয়। যেমন-
- দ এর পরে প থাকলে দ স্থানে ৎ হয়। যেমন- তৎপর = তদ + পর।
- দ এর পর শ থাকলে উক্ত দ স্থানে চ এবং শ স্থানে ছ হয়। যেমন-
- দ এর পরে স থাকলে দ স্থানে ৎ হয়। যেমন- বিপৎসংকুল = বিপদ + সংকুল; তৎসম = তদ + সম।
- দ এর পর হ থাকলে হ স্থানে ধ হয়। যেমন- পদ্ধতি = পদ + হতি।
- ধ এর পরে ক থাকলে ধ স্থানে ৎ হয়। যেমন-
- ধ এর পরে ত থাকলে ধ স্থানে ৎ হয়। যেমন-
- ধ এর পরে প থাকলে ধ স্থানে ৎ হয়। যেমন- ক্ষুৎপিপাসা = ক্ষুধ + পিপাসা।
- ধ এর পরে স থাকলে ধ স্থানে ৎ হয়। যেমন-
- প এর পর স্বরধ্বনি থাকলে উক্ত প স্থানে ব হয়। যেমন-
- ম এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়। যেমন- শঙ্কা = শম + কা; সঞ্চয় = সম + চয়; সন্তাপ = সম + তাপ।
- ম এর পরে ব থাকলে ম এর স্থানে অনুস্বার হয়। যেমন- কিংবা = কিম + বা; সংবরণ = সম + বরণ; সংবাদ = সম + বাদ; স্বয়ংবরা = স্বয়ম + বরা।
- ম এর পরে য থাকলে ম এর স্থানে অনুস্বার হয়। যেমন- সংযম = সম + যম; সংযোগ = সম + যোগ; সংযোজন = সম + যোজন।
- ম এর পরে র থাকলে ম স্থানে অনুস্বার হয়। যেমন- সংরক্ষণ = সম + রক্ষণ।
- ম এর পরে ল থাকলে ম স্থানে অনুস্বার হয়। যেমন- সংলাপ = সম + লাপ।
- ম এর পরে শ থাকলে ম স্থানে অনুস্বার হয়। যেমন- সংশয় = সম + শয়; সংশোধন = সম + শোধন।
- ম এর পরে ষ থাকলে ম স্থানে অনুস্বার হয়। যেমন-
- ম এর পরে স থাকলে ম স্থানে অনুস্বার হয়। যেমন- সর্বংসহা = সর্বম + সহা; সংসার = সম + সার।
- ম এর পরে হ থাকলে ম স্থানে অনুস্বার হয়। যেমন- সংহার = সম + হার।
- ষ-এর পরে ত থাকলে ত স্থানে ট হয়। যেমন- কৃষ্টি = কৃষ্ + তি।
- ষ-এর পরে থ থাকলে থ স্থানে ঠ হয়। যেমন- ষষ্ঠ = ষষ্ + থ।
- স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে চ্ছ হয়। যেমন- একচ্ছত্র = এক + ছত্র; কথাচ্ছলে = কথা + ছলে; পরিচ্ছদ = পরি + ছদ।
- বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি হচ্ছে উত্থান = উৎ + স্থান; উত্থাপন = উৎ + স্থাপন; পরিষ্কার = পরি + কার; পরিষ্কৃত = ; সংস্কৃত = সম + কৃত; সংস্কৃতি = ইত্যাদি।
- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি : সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না; এগুলোকে নিপাতনে সন্ধি বলে। অক্ষৌহিনী = অক্ষ + উহিণী, অন্যান্য = অন্য + অন্য; আশ্চর্য = আ + চর্য; একাদশ = এক + দশ; কুলটা (কুলাটা নয়) = কুল + অটা; গবাক্ষ (গবক্ষ নয়) = গো + অক্ষ; গোষ্পদ = গো + পদ; তস্কর = তৎ + কর; পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি; পরস্পর = পর + পর; প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়) = প্র + ঊঢ়; বনস্পতি = বন + পতি; বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি; মনীষা = মনস + ঈষা; মার্তণ্ড = মার্ত + অণ্ড; শুদ্ধোদন = শুদ্ধ + ওদন; ষোড়শ = ষট + দশ ইত্যাদি।
- বিসর্গ সন্ধিকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন-
- র-জাত বিগর্স: র স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে র-জাত বিসর্গ বলে। যেমন- অন্তঃ - অন্তর, অহঃ - অহর, প্রাতঃ - প্রাতর, পুনঃ- পুনর ইত্যাদি। অন্তঃ + গত = অন্তর্গত, অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান, পুনঃ + আয় = পুনরায়, পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত, অহঃ + অহ = অহরহ, পুনঃ + জন্ম = পুনর্জন্ম, পুনঃ + বার = পুনর্বার, প্রাথঃ + উত্থান = প্রাথরুত্থান, অন্তঃ + ভুক্ত = অন্তর্ভুক্ত, অন্তঃ + বর্তী = অন্তবর্তী।
- স-জাত বিসর্গ: স স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে স-জাত বিসর্গ বলে। যেমন- নমঃ - নমস, পুরঃ - পুরস, শিরঃ - শিরস ইত্যাদি। নমস্কার = নমঃ + কার; পুরস্কার = পুরঃ + কার। তিরস্কার = তিরঃ + কার, পরিস্কার = পরিঃ + কার
- অতীত = অতি + ইত
- অতীব = অতি + ইব
- অত্যন্ত = অতি + অন্ত
- অত্যাশ্চর্য = অতি + আ + চর্য
- অত্যাচার = অতি + আচার
- অন্বীক্ষা = অনু + ঈক্ষা
- অভীষ্ট = অভি + ইষ্ট
- অভ্যাস = অভি + আস
- অধমর্ণ = অধম + ঋণ
- অধঃপাত = অধঃ + পাত
- অধীশ্বর = অধি + ঈশ্বর
- অন্তঃরাষ্ট্রীয় = অন্তঃ + রাষ্ট্রীয়
- অন্তরীক্ষ = অন্তঃ + ঈক্ষ
- অন্বীক্ষা = অনু + ঈক্ষা
- অন্বেষণ = অনু + এষণ
- অহঙ্কার = অহম + কার
- আচ্ছাদন = আ + ছাদন
- আমায় = আমা + এ
- আজ্ঞাধীন = আজ্ঞা + অধীন
- আশাতীত = আশা + অতীত
- আশীর্বাদ = আশীঃ + বাদ
- ইত্যাদি = ইতি + আদি
- উচ্চারণ = উৎ + চারণ
- উচ্ছ্বাস = উৎ + শ্বাস
- উচ্ছেদ = উৎ + ছেদ
- উত্থান = উৎ + স্থান
- উড্ডীন = উৎ + ডীন
- উদগার = উৎ + গার
- উদযাপন = উৎ + যাপন
- উদ্ধত = উৎ + হত
- উদ্ধৃঙ্খল = উৎ + শৃঙ্খল
- উদ্ধার = উৎ + হার
- উত্তমর্ণ = উত্তম + ঋণ
- উপর্যুপরি- উপরি + উপরি
- উমেশ = উমা + ঈশ
- উল্লাস = উৎ + লাস
- উল্লেখ = উৎ + লেখ
- একত্রিত = একত্র + ইত
- কথাচ্ছলে = কথা + ছলে
- কথামৃত = কথা + অমৃত
- কথোপকথন = কথা + উপকথন
- কটাক্ষ- কটা + অক্ষ
- কান্না = কাদ + না
- কাঁচকলা = কাঁচা + কলা
- কিন্তু = কিম + তু
- কিন্নর = কিম + নর
- কিম্ভুত = কিম + ভূত
- কিংবা = কিম্ + বা
- কুলটা = কুল + অটা
- কৃদন্ত = কৃৎ + অন্ত
- কৃষ্টি = কৃ + তি
- ক্ষুধার্ত = ক্ষুধা + ঋত
- ক্ষুৎকাতর = ক্ষুধ + কাতর
- ক্ষুৎপিপাসা = ক্ষুধ + পিপাসা
- গত্যন্তর = গতি + অন্তর
- গবাক্ষ = গো + অক্ষ
- গবাদি = গো + আদি
- গবাস্থি = গো + অস্থি
- গবীশ্বর = গব + ঈশ্বর
- গবেষণা = গো + এষণা
- গায়ক- গৈ + অক
- গিরীন্দ্র = গিরি + ইন্দ্র
- গীস্পতি = গীঃ + গীত
- গোষ্পদ- গো + পদ
- ঘরকন্যা = ঘরকর + না
- ঘড়িয়াল = ঘড়ি + ইয়াল
- ঘোড়াড্ডিম = ঘোড়ার + ডিম
- চলচ্চিত্র = চলৎ + চিত্র
- চাদ্দিন = চার + দিন
- চাট্টি = চার + টি
- চাল্লাখ = চার + লাখ
- ছিন্ন- ছিদ্ + ন
- ছোড়দা = ছোট + দা
- জগন্নাথ = জগৎ + নাথ
- তন্বী- তনু + ঈ
- তৃষ্ণার্ত = তৃষ্ণা + ঋত
- দুচ্চার = দুৎ + চার
- দুরবস্থা = দুঃ + অবস্থা
- দুর্ঘটনা = দুঃ + ঘটনা
- দুর্দান্ত = দুঃ + দান্ত
- দুর্নীতি = দুঃ + নীতি
- দুর্ভাগ্য = দুঃ + ভাগ্য
- দশার্ণ = দশ + ঋণ
- দুঃশাসন = দুঃ + শাসন
- দ্বৈপায়ন = দ্বীপ + অয়ন
- ধনুবিদ্যা = ধনুঃ + বিদ্যা
- নদপকণ্ঠ = নদী + উপকণ্ঠ
- নাজ্জামাই = নাত + জামাই
- নাবিক- নৌ + ইক
- নায়ক = নৈ + অক
- নিরাকার = নিঃ + আকার
- নিরাপদ = নিঃ + আপদ
- নির্জীব = নিঃ + জীব
- নির্বাহ = নিঃ + বাহ
- নির্মাণ = নিঃ + মান
- নির্মাল্য = নিঃ + মাল্য
- নির্যাতন = নিঃ + যাতন
- নিষ্কাম = নিঃ + কাম
- নিষ্ঠা = নিঃ + ঠা / নিষ + থা
- নিষ্পাপ = নিঃ + পাপ
- নীরব = নিঃ + রব
- নীরস = নিঃ + রস
- নীলোৎপল = নীল + উৎপল
- ঢাকেশ্বর = ঢাকা + ঈশ্বর
- ঢাকেশ্বরী = ঢাকা + ঈশ্বরী
- প্রত্যাশা = প্রতি + আশা
- প্রত্যাশাপন্ন = প্রতি + আশা + আপন্ন
- পিত্রাদেশ = পিতৃ + আদেশ
- পদ্ধতি = পদ + হতি
- পরিচ্ছেদ = পরি + ছেদ
- পরীক্ষা- পরি + ঈক্ষা
- পশ্বধম- পশু + অধম
- পশ্বাচার = পশু + আচার
- পর্যন্ত- পরি + অন্ত
- পর্যালোচনা = পরি + আলোচনা
- পরীক্ষণ = পরি + ঈক্ষণ
- পরীক্ষা = পরি + ঈক্ষা
- প্রতীক্ষা = প্রতি + ঈক্ষা
- প্রত্যহ = প্রতি + অহ
- প্রত্যেক = প্রতি + এক
- পাবক = পৌ + অক
- প্রাতরাশ = প্রাতঃ + আশ
- প্রায়শ্চিত্ত = প্রায় + চিত্ত
- প্রিয়ংবদা = প্রিয়ম + বদা
- পিত্রালয় = পিতৃ + আলয়
- পুনরাদেশ = পুনঃ + আদেশ
- পুরস্কার = পুরঃ + কার
- ফণীন্দ্র = ফণী + ইন্দ্র
- বজ্জাত = বদ + জাত
- বধূক্তি = বধূ + উক্তি
- বধূৎসব = বধূ + উৎসব
- বহিষ্কার = বহিঃ + কার
- বড়দাদা = বড় + দাদা
- বাগজাল = বাক + জাল
- বাগধারা = বাক + ধারা
- বাগযন্ত্র = বাক + যন্ত্র
- বাগলোপ = বাক + লোপ
- বাগাড়ম্বর = বাক + আড়ম্বর
- বাগীশ = বাক + ঈশ
- বাচস্পতি = বাচঃ + পতি
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা
- বাচস্পতি = বাচঃ + পতি
- বাড়িওয়ালা = বাড়ি + ওয়ালা
- বেশকম = বেশি + কম
- বৃষ্টি- বৃষ + তি
- ভবন = ভো + অন
- ভয়ার্ত = ভয় + ঋত
- ভাবুক = ভৌ + উক
- ভাস্কর = ভাঃ + কর
- মনস্কাম = মনঃ + কাম
- মনস্কামনা = মনঃ + কামনা
- মনীষা- মনস + ঈষা
- মনোভিলাষ = মনঃ + অভিলাষ
- মন্বন্তর = মনু + অন্তর
- মস্যাধার = মসী + আধার
- মহীন্দ্র = মহী + ইন্দ্র
- মহৌষধি = মহা + ওষধি
- মহৈশ্বর্য = মহা + ঐশ্বর্য
- মার্তণ্ড = মার্ত + অণ্ড
- মাত্রাদেশ = মাতৃ + আদেশ
- মাত্রুপদেশ = মাতৃ + উপদেশ
- মাংসৌদন = মাংস + ওদন
- মিশকাল = মিশি + কাল
- মিশকালো = মিশি + কালো
- মীমাংসা = মিমান + সা
- শীতার্ত- শীত + ঋত
- যজ্ঞ = যজু + ন
- যথার্থ = যথা + অর্থ
- যথেচ্ছা = যথা + ইচ্ছা
- যদ্যপি = যদি + অপি
- যাচ্ছেতাই = যা + ইচ্ছেতাই
- যাচ্ঞা = যাচ + না
- যাবজ্জীবন = যাবৎ + জীবন
- যাবতীয় = যাবৎ + ঈয়
- যোগাযোগ = যোগ + যোগ
- রবীন্দ্র = রবি + ইন্দ্র
- রাজর্ষি = রাজা + ঋষি
- রাজ্ঞী = রাজ + নী
- রান্না = রাঁধ + না
- লঘূর্মি = লঘু + ঊর্মি
- শঙ্কা = শম্ + কা
- শচীন্দ্র = শচী + ইন্দ্র
- শরচ্চন্দ্র = শরৎ + চন্দ্র
- শরৎকাল = শরদ + কাল
- শান্ত = শাম + ত
- শীতার্ত = শীত + ঋত
- শোয়া = শো + আ
- ষড়ঋতু = ষট + ঋতু
- ষড়ানন = ষট + আনন
- ষড়মাস = ষট + মাস
- ষড়যন্ত্র = ষট + যন্ত্র
- ষড়ানন = ষট + আনন
- ষণ্মাস = ষট + মাস
- ষষ্ঠ = ষষ + থ
- ষোড়শ- ষট + দশ
- সঙ্গীত = সম + গীত
- সচ্চরিত্র = সৎ + চরিত্র
- সঞ্চয় = সম + চয়
- সতীন্দ্র = সতী + ইন্দ্র
- সতীশ = সতী + ঈশ
- সদ্ভাব = সৎ + ভাব
- সদুপদেশ = সৎ + উপদেশ
- সন্যাস = সম + ন্যাস
- সন্ধান = সম + ধান
- সন্ধি- সম + ধি
- সমীক্ষণ = সমি + ঈক্ষণ
- সম্মান = সম + মান
- সংখ্যা = সম + খ্যা
- সংগত = সম + গত
- সংগীত = সম + গীত
- সংঘ = সম + ঘ
- সংঘাত = সম + ঘাত
- সংবাদ = সম + বাদ
- সংরাগ = সম + রাগ
- সংলাপ = সম + লাপ
- সংসার = সম + সার
- সংস্কার- সম্ + কার
- সম্রাট = সম + রাট
- সারঙ্গ = সার + অঙ্গ
- সুবন্ত = সুপ + অন্ত
- সচ্চিন্তা = সৎ + চিন্তা
- সিংহ = সিন + হ
- সীমন্ত (সীঁথি) = সীম + অন্ত
- স্বল্প = সু + অল্প
- স্বয়ংবরা = স্বয়ম + বরা
- স্বাগত- সু + আগত
- স্বাধীকার = স + অধিকার
- সৃক্ত = সু + উক্ত
- হিংসা = হিন + সা
- ঔ + উ = আব + উ এর সূত্র প্রয়োগে সন্ধি হয়েছে ভাবুক।
- সন্ধিজাত শব্দ কোনটি- ক. ইন্দ্রজিৎ খ. ইত্যাদি গ. ইলিশ ঘ. ইতিহাস উত্তর. খ
- নিয়ম অনুসারে সন্ধি হয় না- কুলটা।
- যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনি স্ত, স্থ পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে।
- সন্ধি বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়? উত্তর: ধ্বনিতত্ত্ব।
- সন্ধির প্রধান সুবিধা হচ্ছে উচ্চারণের সুবিধা।
- সন্ধির উদ্দেশ্য হচ্ছে ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- যে ক্ষেত্রে উচ্চারণের আয়াস লাঘব হয় কিন্তু ধ্বনিমাধুর্য রক্ষিত হয় না। সে ক্ষেত্রে সন্ধির বিধান নেই।
মোঃ মুক্তার হোসেন 01823989457